মেখলা ঘোষদস্তিদার
প্রিয়
ভানুদাদা,
এই বোবা মনের নীরব কথা শুধু তোমারই জন্যে ... আমি সমাজ,সংসার,বয়স কিচ্ছু মানিনা ... একমাত্র তোমাকে জানি,বুঝি ... তাই তোমার স্মৃতিটুকুই আমার সম্বল - গ্রন্থিত গাঁথা, আমার আকুতি থেকে তোমাকে জানাই, তোমার ম্যাগনেটিক ছোঁয়ায় রবির কিরন আমায় আজ স্পর্শ করেনি,ঘুম ভাঙিয়েছো ভোরের পাখির ছদ্মবেশে তপনহীন ভোরের ঘোর তমসায় মেঘমল্লার শিসে ...
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে বিরহিণীর এই বুকে উথাল- পাথাল ঢেউ তোমার বিরহ বেদনায় ... আক্ষেপের ব্যাকুলতা থেকে নির্গত নির্ঝরিণীর ধারা বেয়ে ভেসে চলি নীল থেকে অতিনীলে ... শেষে আদিগন্ত বিস্তৃত তোমার অমৃত সাগরে গিয়ে পৌঁছাই ... প্রাণসরোবরে খুঁজে পাই সাহিত্য রচনা তোমার হৃদয় ছোঁয়া সৃজনশীলতা, প্রাণস্পন্দিত সুধা,গান,কাব্য, চিত্রশৈল,কিন্তু ফেনিল সফেনের দোলায় কায়াহীন তুমি ... অন্তরাত্মা ভারাক্রান্ত মনে ফিরে আসে একা!!!
অপেক্ষা থেকে প্রতীক্ষার দোর ভেদ করে শুনতে পাই ছিন্ন বীণার ওপার থেকে তোমার পদধ্বনি ... জাগিয়ে দিয়ে চলে যাও খসে পড়া তারার মতোন দূরে ... অস্থির হরিণীর মতো দুরন্ত গতিতে বেরিয়ে আসি তোমার দেখা পাবো বলে ...
অসীম শূন্যতায় হেঁটে যেতে যেতে দেখি গীতাঞ্জলি হাতে জোব্বা পরা তোমার ছায়া ... তুমি চমকে ওঠো আমার কণ্ঠস্বরে ...
" সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে ফুলডোরে বাঁধা ঝুলো না" ...
তোমাকে স্পর্শ করতেই দেখি আমাকে ঘিরে আছে কুহেলিকাময় অকাল কুহু- যামিনী ...
ভানুদাদা,
প্রস্ফুটিত মুকুলে রং ধরিয়েছিলে রামধনুর ছটায় পাপড়ির স্তরে স্তরে,নরম গাঁথনিতে ছিলো না কোনো নিষিদ্ধ ইস্তেহার ...
নীল ফ্রকের স্রোতে সুর বেঁধেছিলে ভৈরবী রাগে শুক তারার স্নিগ্ধ আমেজে।
সাঁতার কেটেছিলে দীঘির বুকে সঙ্গ লাভের বাসনায় ... আলো- আঁধারের মোহনায়,।
অনুভবের শিখরে সপ্তপদীর ছড়ে উঠেছিলো ঝড় তোমাকে ঘিরে যুগল চরণের পদধ্বনিতে,শান্ত সুশীতল সবুজের মাঝে,
পাহাড়ের ঢাল বেয়ে হাতে হাত রেখে সময় কেটে যেতো ঘড়ির কাঁটার অলক্ষ্যে শুকনো পাতার মর্মরের,পাইন - দেবদারুর ছায়া পথের গোধূলি বেলায়।
আমার আঙুল ছুঁয়ে তোমার আঙুল কথা বলতো বিভিন্ন আঙ্গিকে,অনুভূতির ইচ্ছে ডানায় ... সাঁঝ তারার আবেগ স্ফুরণে কালপুরুষ হয়ে ধরা দিতে ভাসমান ভেলার জোনাকি উৎসবে।
তখন থেকেই আমার জীবনে বাসা বেঁধেছিলে যাপন মন্ত্রের অতলে ...
লোক দেখানো গাঁট বন্ধনে নয় মনের মানুষ করে নিজের মতন শেজ গড়েছিলাম নির্বিবাদে।
শিকড়ে শিকড়ে,এলো চুলের বিন্যাসে,দখিনা বাতাসের আলিঙ্গনে।
প্রেম তরঙ্গে বুকের ভিতর মুখ গুঁজে যে দাবী করেছিলে তা মাথা পেতে নিয়েছিলাম একমাত্র তোমাকে ভালোবেসে।
আজ এতযুগ পরে নব বঁধুর বেশে তোমাকে লিখতে বসেছি চিঠি ... স্মৃতি রোমন্থনের উজান বুননে শুধু এটুকু বলতে চাই, বিরহ ভারে নুয়ে যাওয়া ফুল নই আমি,
অন্তরাত্মার অনির্বচনীয় ভিতে দ্বিধাহীন আদরের প্রতি রেণুতে তুমি,তোমার চুম্বনের আলপনায় আমার বেঁচে থাকা নীরবতার আড়ালে ...
আজো তুমিই আমার বসন্ত ... সুদীর্ঘ ছায়ার চির সজীব কায়ায় ... তোমার ঐকতানিক নিবিড়তার সুপ্ত মিলন তীর্থের সোনালী স্বপ্নে।
ইতি,
তোমার
রাণু,

Facebook Comments